সাহাজুদ্দিন সরকার সুমন
গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালিয়াকৈরের কারল সুরিচালা এলাকায় হাবীব প্লাজার দ্বিতীয় তলায় গ্রাম ডাক্তার প্রশিক্ষণ পরিচলানা করছে নামসর্বস্ব এক প্রতিষ্ঠান।
কালিয়াকৈরের কারল সুরিচালা এলাকায় বর্ণিল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর আল হাবীব প্লাজার দো’তলার একটি কক্ষে। প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হয় প্রতি শুক্রবার সকাল থেকে ১২টা পর্যন্ত। বর্ণিল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আহসান হাবীব।

এদিকে প্রশিক্ষক হিসেবে যিনি প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন তিনি জনস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে (আর,এস,এম) পদে কর্মরত মো. সোলায়মান হোসেন (৩৫)।

প্রশিক্ষক সুলায়মান হোসেন জন্মসূত্রে ভোলা জেলার সদর উপজেলার কাচিয়া গ্রামের আব্দুল হাই এর ছেলে। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের কালিয়াকৈ উপজেলার কারল সুরিরচালা চৌধুরী বাড়ী এলকায় জমি ক্রয় করে বসবাস করছেন বলে দাবি করেন।

সরজমিনে দেখাযায়, গত শুক্রবার সকালে স্কুলের দুতলায় একটি কয়েকজন ছাত্রকে প্রশিক্ষক হিসেবে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন সোলায়মান হোসেন। এসময়,প্রশিক্ষনার্থীদের কাছ থেকে জানা যায়, আজকেই তাদের ৬মাস মেয়াদী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের প্রথম দিন।

প্রশিক্ষনার্থী মিরাজ হোসেন (৫০), মো. রানা (৩৫), উজ্জ্বল রয় (২৫), মো. শফিক (৩০), সদ্য এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ওমর ফারুক (১৬) ও গোলাম রাব্বি (২৭) এই ৭জন’কে নিয়ে নামসর্বস্ব এই প্রতিষ্ঠান প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছেন। এরা সকলেই ৬মাস মেয়াদী পল্লী চিকিৎসক কোর্সে ভর্তি হয়ে অংশগ্রহণ করেছেন বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের জন্য।
সাংবাদিক পরিচিতি পেয়ে প্রশিক্ষক মো. সোলায়মান হোসেন ফোনে বেশ কয়েকটি জায়গায় যোগাযোগ করেন। প্রশিক্ষনার্থীদের বক্তব্য নেওয়ার পরপরই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ করে প্রশিক্ষনার্থীদের চলে যেতে বলেন, প্রশিক্ষক সোলায়মান।

এসময় প্রশিক্ষক সোলায়মান প্রশিক্ষণের বৈধতা সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানান, তিনি এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম কালিয়াকৈরে ২সপ্তাহ ধরে শুরু করেছেন। বাংলাদেশ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ লোকাল ডাক্তার সোসাইটি নামে রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্ত তাদের প্রশিক্ষণ সেন্টার। যাহার রেজি নং- এস ২৪৩৩। গাজীপুর সিভিল সার্জন কর্তৃক অনুমোদিত কি না কি এই প্রশিক্ষণ সেন্টার প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, শুরু করেছেন পরে অনুমতি নিয়ে নেবেন এবং পর্যায়ক্রমে এমবিবিএস পদমর্যাদার প্রশিক্ষক বাড়াবেন। এমবিবিএস ব্যতিত

এধরণের প্রশিক্ষণে অন্যকেউ প্রশিক্ষণ দিতে পারেন কি না তখন তিনি নিজেকে প্রশিক্ষক হিসেব কাজ করার পরিবর্তে অফিস সহকারীর পরিচয় দেন। সবশেষে তিনি নিজেই প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন বলে শিকার করেন।
তিনি এসময় আরো জানান, নোয়াখালীর জনৈক একজন এড. এই প্রতিষ্ঠানের মালিক এই বাংলাদেশ লোকাল ডাক্তার সোসাইটি’র। তার পরামর্শে তিনি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছেন।

অনুমতি ব্যতিত কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এধরণের প্রশিক্ষণ পরিচালনা করতে পারেন কি না প্রশ্নের জবাবে সিভিল সার্জন গাজীপুর বলেন, অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান হলেও প্রশিক্ষণের স্থানসহ সমস্ত তথ্য সম্বলিত আবেদনের মাধ্যমে অনুমতি প্রাপ্তির পর প্রশিক্ষণ দিতে পরবেন। এর ব্যপতয় হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ