​লালমনিরহাট পৌরসভার তালুক খুটামারা এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপককে প্রাণনাশের হুমকি ও বসতবাড়ির প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে গত ১ জুলাই লালমনিরহাট সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ৮৬৩) করেছেন ভুক্তভোগী অধ্যাপক মো. আশরাফুল আলম প্রামানিক (৬৬)।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩৫ বছর আগে মো. আব্দুস সাত্তার (৬৫) নামক এক ব্যক্তির কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করে দীর্ঘ দিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন অধ্যাপক আশরাফুল আলম। ওই জমিতে তার বসতবাড়ি ও একটি ছাত্রাবাস রয়েছে। বিবাদী আব্দুস সাত্তার ও সন্তানেরা দীর্ঘদিন ধরে অহেতুক ওই জমি নিজের দাবি করে আসছেন। অতীতে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও বিবাদী তার দাবির স্বপক্ষে কোনো আইনি প্রমাণ দিতে পারেননি। এমনকি অতীতে জমি পাবেন না মর্মে তিনি অঙ্গীকারনামাও দিয়েছেন। তবে সম্প্রতি স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তির প্ররোচনায় তিনি পুনরায় জমিটি দখলের পাঁয়তারা শুরু করেন।

অধ্যাপক আশরাফুল আলম জানান, গত ১ জুলাই দুপুরে পিংকির মোড় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে বিবাদী আব্দুস সাত্তার তাকে একা পেয়ে অতর্কিতে বাঁশের লাঠি নিয়ে অশ্লীল গালিগালাজ শুরু করেন এবং মারধরের জন্য উদ্যত হন। ভুক্তভোগীর ছেলে মো. জুহায়ের আব্দুল্লাহ, স্ত্রী শামসেআরা বেগম এবং স্থানীয়রা এগিয়ে এলে বিবাদী তাদের প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

শুধু মৌখিক হুমকিই নয়, পরিকল্পিতভাবে ওইদিন ছাত্রাবাসের সীমানা প্রাচীরের রড কেটে এবং দেয়াল ঘেঁষে গভীর গর্ত খনন করে প্রায় ৩০-৪০ ফুট লম্বা প্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছে।

অধ্যাপক আশরাফুল আলম আক্ষেপ করে বলেন, “একজন অবসরে যাওয়া শিক্ষক হিসেবে মানুষের সম্মান নিয়ে বেঁচে আছি। বিবাদী দীর্ঘ দিন ধরে আমাকে আমার বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করার ষড়যন্ত্র করছেন। এখন পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তিনি আমার পরিবারের সদস্যদের বড় ধরনের ক্ষতি সাধনে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।”

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, আইন নিজ হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা এড়াতে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

​এ বিষয়ে লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ