মাদারীপুরের ২১ যুবক তিন মাস ধরে লিবিয়ায় বন্দী, লাখ লাখ টাকা দিয়েও মিলছে না মুক্তি

মাদারীপুরের ২১ যুবক তিন মাস ধরে লিবিয়ায় বন্দি , লাখ লাখ টাকা দিয়েও মিলছেনা মুক্তি।
মোঃ রায়হান উদ্দিন রুবেল। স্টাফ রিপোর্টার, মাদারীপুর।
মাদারীপুর সদর উপজেলার দুধখালী ইউনিয়নের ২১ যুবক তিনমাস ধরে লিবিয়ার বন্দিশালায় আটক রয়েছে। দালালদের লাখ লাখ দিলেও মিলছে না মুক্তি। নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে মোবাইলে পাঠিয়ে বার বার মুক্তিপনের টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ পরিবারগুলোর। এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে পালিয়ে অভিযুক্তরা দালালরা।
জানা গেছে, দুর্গাবর্দী গ্রামের মানবপাচার চক্রের সদস্য নুরুল আমিন ও তার স্ত্রী নাজমিন লিবিয়া হয়ে ইতালী নেয়ার কথা বলে প্রত্যেক পরিবারের কাছ থেকে নেয় ৯ লাখ টাকা। পরে লিবিয়ান মাফিয়াদের হাতে তিন মাস আগে বিক্রি করে দিয়ে আবারো প্রত্যেক পরিবারের কাছ থেকে আদায় করে মুক্তিপনের ৬ লাখ টাকা। তবুও যুবকদের মিলছে না মুক্তি। লিবিয়ার মাফিয়াদের হাতে বন্দি যুবকরা হলো, মাদারীপুর সদর উপজেলার দুধখালী ইউনিয়নের দুর্গাবর্দী গ্রামের লুৎফর ব্যাপারীর ছেলে আল আমিন ব্যাপারী, মোতালেব খানের ছেলে ইয়াসিন খান, লুৎফর ব্যাপারীর ছেলে আল আমিন ব্যাপারী, মনির হাওলাদারের ছেলে তমাল হাওলাদার, আলী হোসেন ব্যাপারীর ছেলে ইমন ব্যাপারী, তাজমুল চোকিদারের ছেলে শান্ত চোকিদার, কালাম ফকিরের ছেলে মেহেদী ফকির, দুধখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য হুয়ায়ন ব্যাপারীর ছেলে সৌরভ ব্যাপারী, ফারুক হাওলাদারের ছেলে ফারদিন হাওলাদার, এসকান ব্যাপারীর ছেলে হাসান ব্যাপারী, হাবিব খানের ছেলে আল আমিন খান, মোস্তফা মাতুব্বরের ছেলে সাব্বির মাতুব্বর, মনির খানের ছেলে নাঈম খান, শাহ্আলম মুন্সির ছেলে হৃদয় মুন্সি, ওহাব আলি ব্যাপারীর ছেলে হারুণ ব্যাপারী, এহসাক হাওলাদারের ছেলে রুবেল হাওলাদার। বাকিদের নাম পাওয়া যায়নি। বন্দিশালায় আটক থাকা প্রত্যেকের বয়স ১৮-২৫ বছরের মধ্যে।
তমাল হাওদারের মা মুরশিদা বেগম বলেন, আমাদের সাথে চুক্তি ছিলো ৯ লাখ টাকার বিনিময়ে আমাদের সন্তানদের ইতালী পৌঁছে দিবে। টাকা নেয়ার পর মাফিয়াদের হাতে বিক্রি করে দিয়েছে। এখন আমরা হিদেশারা। এক সপ্তাহ ধরে সন্তানদের কোন খোঁজ নেই।
ইমনের বেপারীর মা নাহার বেগম বলেন, আমার একটি মাত্র ছেলে। বড় আশা করে ইতালী পাঠানোর ইচ্ছা করেছি। দালালরা এমন করবে তা কিছুতেই মানতে পারছি না। এখন বড়ই অসহায়। সরকার ও প্রশাসনের কাছে আমার ছেলেসহ যারা আটকা পড়ছে তাদের মুক্তির দাবী জানাই। পাশাপাশি এই ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনতের আওতায় এনে সর্ব্বোচ্চ শাস্তির দাবীও জানাচ্ছি।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরাধীরা যেখানেই থাকুক না কেন, তাদের ধরতে তৎপরতা চালানো হবে।