বিদেশ থেকে পরিচালিত ফেসবুক পেজের অভিযোগ: তদন্তের আওতায় আসবে কি বিতর্কিত প্রচারণা?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন সরকারি কর্মকর্তাকে নিয়ে প্রকাশিত একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন করে তথ্য-যাচাই, মানবাধিকার এবং ডিজিটাল দায়বদ্ধতার প্রশ্ন সামনে এসেছে। সম্প্রতি “Daily Alokito Barisal Digital” নামের একটি ফেসবুক পেজে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের শাহমখদুম জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) দীন মোহাম্মদকে নিয়ে একটি বিতর্কিত লেখা প্রকাশিত হয়, যা বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট পোস্টে উক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হলেও অভিযোগগুলোর পক্ষে কোনো সরকারি নথি, আদালতের রায়, তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্যসূত্রের উল্লেখ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে পেজটির পরিচিতি, কার্যক্রম এবং সংবাদ প্রকাশের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পর্যবেক্ষকরা।
গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো ব্যক্তি—বিশেষ করে একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিমালা অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে তথ্য যাচাই, একাধিক সূত্র ব্যবহার, প্রাসঙ্গিক নথিপত্র পর্যালোচনা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ অন্যতম।
মানবাধিকার কর্মীদের একাংশের মতে, প্রমাণহীন বা যাচাইবিহীন অভিযোগ প্রকাশ একদিকে যেমন কোনো ব্যক্তির মর্যাদা, সুনাম ও পেশাগত অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, অন্যদিকে তা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দায়িত্বশীল ব্যবহারের প্রশ্নও উত্থাপন করে।
এ ঘটনায় বিভিন্ন মহলে কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। “Daily Alokito Barisal Digital” কোনো নিবন্ধিত গণমাধ্যম কি না, প্রকাশিত তথ্যের উৎস কী, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হয়েছিল কি না, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া হয়েছিল কি না এবং জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশের নামে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে কি না—এসব বিষয় নিয়ে অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ডিসি দীন মোহাম্মদ অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, “প্রকাশিত বক্তব্যগুলোর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। আমার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে আমি মনে করি। অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা না হলে আমি আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করব।”
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া একজন মানবাধিকার কর্মী দাবি করেন যে পেজটি বিদেশ থেকে পরিচালিত হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে। তার মতে, অতীতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও সেখানে বিতর্কিত ও অভিযোগভিত্তিক লেখা প্রকাশের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব তথ্যের স্বাধীন যাচাই এখনও সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ করা হয়, তাহলে সেই অভিযোগের পক্ষে যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন করা এবং অভিযুক্ত পক্ষকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া ন্যায্যতার অংশ। অন্যথায় বিষয়টি মানহানি, বিভ্রান্তি সৃষ্টি বা ডিজিটাল অপব্যবহারের অভিযোগের দিকে গড়াতে পারে।
এ প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত “Daily Alokito Barisal Digital” কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে উত্থাপিত অভিযোগ ও প্রশ্নগুলোর বিষয়ে তাদের অবস্থান জানা যায়নি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, সাইবার অপরাধ তদন্ত সংস্থা এবং ফেসবুক প্রশাসনের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। একই সঙ্গে তারা ডিজিটাল মাধ্যমে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।