চট্টগ্রাম-নেত্রকোনা সংযোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম Facebook-এ ভাইরাল হওয়া দুটি প্রতিবাদী গান ঘিরে এখন তোলপাড় চলছে বিভিন্ন এলাকায়। “সুদের ব্যবসা করে মাজু-শফিকুল হইছে বড়লোক” এবং “ও মাজু ভাই ও শফিকুল শুনছনি” শিরোনামের এই গানগুলো ইতোমধ্যেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সৃষ্টি করেছে নানা প্রশ্ন ও আলোচনার ঝড়।
গানগুলোর বিষয়বস্তুতে উঠে এসেছে কথিত সুদি ব্যবসার মাধ্যমে হঠাৎ সম্পদশালী হয়ে ওঠার অভিযোগ। বিষয়টি নজরে আসার পর আমাদের প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত চালিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের সন্ধান পেয়েছেন বলে জানা যায়।

তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তদের একজন শফিকুল, যার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলা-এর তিয়শ্রী ইউনিয়নের শিবপাশা গ্রামে। অপরজন মোঃ মাজু মিয়া, একই উপজেলার তিয়শ্রী গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে দুজনেই বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় বসবাস করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোঃ মাজু মিয়া পূর্বে একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন পরে ফুটপাতে ওজন মাপার যন্ত্র নিয়ে ব্যবসা করে প্রকাশে থাকলেও তার সুদি ব্যবসা করে ব্যাপক সাম্রাজ্য বিস্তার লাভ করেছে তা যেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানতে না পারে সেজন্য সে ফুটপাতে ওজন মাপার যন্ত্র দিয়ে ব্যবসা করে। কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে তার আর্থিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। বর্তমানে তার দেশে প্রায় দেড় কোটি টাকা এবং চট্টগ্রামে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার সুদি লেনদেন রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, মোঃ শফিকুল নামের আরেক ব্যক্তি, যিনি একসময় রিকশা চালক ছিলেন, পরে ফুটপাতে চায়ের দোকান চালান। এখন তার মালিকানায় দুইটি দোকান রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ৫০ থেকে ৭০ লক্ষ টাকা। এছাড়াও গ্রামের বাড়িতে নির্মাণ করেছেন তিনতলা ভবন এবং মাঠ পর্যায়ে প্রায় ৩০-৩৫ লক্ষ টাকা সুদি ঋণ বিতরণ করেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি করেন এবং আরও বলেন চায়ের দোকানের আড়ালে অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছেন শফিকুল।

এলাকাবাসীর অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সুদের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ অর্জন করা হচ্ছে এবং সরকারের কর ও ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিমাণ আয়ের বেশি হলে কর প্রদান বাধ্যতামূলক। অথচ অভিযুক্তদের কর প্রদান সংক্রান্ত কোনো সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন চট্টগ্রাম আদালতের এক আইনজীবী। তিনি জানান, “এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। অবৈধ সুদের ব্যবসা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং লাইসেন্স ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা সম্পূর্ণ বেআইনি।”
তিনি আরও বলেন, এই ধরনের আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ সমবায় সমিতি অধিদপ্তর থেকে অনুমোদন প্রয়োজন, যা অনেক ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার বিষয়—ভাইরাল গানের সুরে উঠে আসা অভিযোগগুলো কতটা সত্য প্রমাণিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ