লালমনিরহাট জেলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আওতাধীন “মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (৮ম পর্যায়)” প্রকল্পের শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ফলাফলে অসামঞ্জস্য থাকায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীরা।

জানা যায়, গত ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ লালমনিরহাট জেলা মডেল মসজিদ হলরুমে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। একই দিনের বিকেলে লিখিত ফলাফল এবং সন্ধ্যা ৭টার দিকে মৌখিক পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ফলাফল প্রকাশ করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন লালমনিরহাট জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ও শিক্ষক নিয়োগ নির্বাচন কমিটির সদস্য সচিব মোঃ রেজাউল করিম।

ভুক্তভোগীরা জানান, আদিতমারী উপজেলার “সহজ কোরআন শিক্ষা” শাখার রোল নম্বর ০৭ লিখিত পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলেও মৌখিক ও চূড়ান্ত ফলাফলে তাকে উত্তীর্ণ দেখানো হয়েছে। এছাড়া কালীগঞ্জ উপজেলার মৌখিক ও চূড়ান্ত ফলাফলে রোল নম্বর ০৭, ২৩ ও ২৪ উত্তীর্ণ দেখানো হলেও পরবর্তীতে চূড়ান্ত তালিকায় কেবল রোল নম্বর ০৭ প্রকাশ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি আড়াল করতে পরে সংশোধিত লিখিত ফলাফল শিট প্রকাশ করা হয়, যা আগের ফলাফলের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। প্রকাশিত নথিতে একই রোল নম্বর নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।

পরীক্ষার্থীরা বলেন, “লিখিত পরীক্ষায় ফেল করেও মৌখিকে পাশ দেখানো দুর্নীতি ছাড়া সম্ভব নয়। এতে যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।”
এ বিষয়ে মোঃ রেজাউল করিম বলেন,
“আমাদের ভুল হয়েছে। মানুষ বলতেই ভুল।”
শিক্ষক নিয়োগ নির্বাচন কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

নথিভিত্তিক এই অসামঞ্জস্যের ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ