মিজানুর রহমান মিলন, শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি, আমাদের দেশের বিপুল পরিমান জনগোষ্ঠিকে যথাযথ ভাবে কাজে লাগাতে হলে প্রয়োজন দক্ষতা উন্নয়ন ও কারিগরি শিক্ষা।আমাদের দেশের এই আঠারো কোটি জনসংখ্যা হচ্ছে আমাদের অন্যতম জাতীয় সম্পদ। দেশের এক তৃতীয়াংশ দরিদ্র জনগোষ্টিকে স্বল্পতম সময়ে দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে শ্রম বাজারের মূল স্রোতে নিয়ে আসা সম্ভব।আমাদের দেশের জনশক্তির একটি বড় অংশই হচ্ছে বয়সে তরুণ আর এটাকে কাজে লাগাতে হলে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নাই।কারিগরি ও কর্ম উপযোগী শিক্ষা একটি দেশের শিল্প উন্নয়নের জন্য দক্ষ কারিগরি জ্ঞানে শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ কর্মী তৈরিতে প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। সমগ্র পৃথিবীতে যে দেশ যত বেশি দক্ষ কারিগরি জ্ঞান সম্পন্ন শিক্ষিত জনগোষ্ঠী তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে সে দেশ তত বেশী শিল্পউন্নত।উপযুক্ত ও কর্মমুখী শিক্ষা না থাকলে কোনো দেশে প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ থাকা সাপেক্ষেও অর্থনৈতিক উন্নতি নিশ্চিত করা যায় না। একই ভাবে প্রচুর জনশক্তি থাকলেও কারিগরি প্রশিক্ষণ বা শিক্ষা না থাকলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই বিপুল সংখ্যক জনশক্তিকে উপযুক্ত কর্মমুখী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মধ্যমে উৎপাদনমুখী কাজে ব্যবহার করতে পারলেই সেই রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।শিক্ষার্থীরা যে শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে তা বাস্তব জীবনে কাজে লাগিয়ে একটি কর্মে নিযুক্ত হতে পারে তাই কারিগরি শিক্ষা। আবার দক্ষতা উন্নয়ন বা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি করে যে কর্মে প্রবেশ করে তাই হল দক্ষতা বৃদ্ধি বা প্রশিক্ষণ।একটা সময় ছিল যখন প্রযুক্তির দিক থেকে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে ছিল। কিন্তু এখন বহির্বিশ্বের প্রযুক্তির ছোঁয়া বাংলাদেশেও লেগেছে। একসময়ের স্বল্প উন্নত দেশ বাংলাদেশ, এখন সবক্ষেত্রেই উন্নয়নশীল দেশগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। বেড়েছে শিক্ষার হার। খুব কম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই শিক্ষার্থীদের পুঁথিগত শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগের শিক্ষা দেওয়া হয়। যেহেতু শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগ শিক্ষার্থীদের শেখানো হচ্ছে না, সে কারণেই শিক্ষার্থীরা যথাযথ জ্ঞান লাভ করতে পারছেন না এবং অদক্ষ কর্মী হয়ে উঠছে। ফলে তারা দেশের উন্নতিতে আশানুরূপ ভূমিকা রাখতেও ব্যর্থ হচ্ছেন। শুধু পুঁথিগত বিদ্যা নয়, থাকতে হবে বাস্তবিক প্রয়োগ। এসব কোর্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যাতে সহজেই প্রযুক্তি শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে তার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে বৃত্তিমূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা উচিত । হাতে কলমে শিক্ষার ব্যবস্থা থাকলে আমরাও প্রযুক্তির নতুন নতুন আবিষ্কারে ভূমিকা রাখতে পারবো। তারাও বিভিন্ন মেশিন আবিষ্কার ও পরিচালনা করতে সক্ষম ।অদ্য বৃহস্পতিবার ( ২০ অক্টোবর ) সকাল ১০ ঘটিকায় বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড অনুমোদিত টেকনো ট্রেনিং ইন্সটিটিউটে ফুলকোট নবোদয় কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়ের এস এস সি ভোকেশনাল শিক্ষার্থীদের ইন্ডাস্টরিয়াল ট্রেণিং উদ্ভোধনকালে ইন্সটিটিউটের পরিচালক বাংলাদেশ ভোকেশনাল শিক্ষক সমিতির সভাপতি উপোরক্ত বক্তব্য রাখেন এবং ট্রেনিং পরিচালনা করেন। তিনি আরো বলেন কর্মক্ষম জনশক্তিকে বেকার রেখে কখনোই সত্যিকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেখানে একজন কর্মক্ষম মানুষও বেকার থাকবে না তার জন্য প্রয়োজন সঠিক প্রশিক্ষন।চাহিদা অনুযায়ি প্রশিক্ষনের মাধ্যমে জনশক্তিতে রুপান্তর করে দেশে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব ।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ