কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ জানারঘোনা এলাকায় মাথা ও হাতের কবজিবিহীন এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল চারটার দিকে একটি ভাড়াবাড়ির পাশের পুকুরপাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বাসিন্দারা পুকুরপাড়ে কম্বলে মোড়ানো অবস্থায় অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পেয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
প্রাথমিকভাবে মরদেহটির পরিচয় অজ্ঞাত থাকলেও পরে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে নিহত নারীকে সাদিয়া আক্তার মুন্নি (২৮) হিসেবে শনাক্ত করা হয়। তিনি মহেশখালী উপজেলার জাগিরা ঘোনা এলাকার আমানউল্লাহ ও হাসিনা বেগমের মেয়ে। তাঁর স্বামী সাইফুল রহমান।
স্থানীয়দের দাবি, গত রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে মুন্নি ও তাঁর স্বামী দক্ষিণ জানারঘোনা এলাকার আয়ুব নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তবে প্রায় ১৫ দিন ধরে তাদের কাউকে এলাকায় দেখা যায়নি। সাইফুল নিজেকে গাড়িচালক হিসেবে পরিচয় দিতেন।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার আগে সাইফুল রহমান মোবাইল ফোনে ভয়ংকর হুমকি দিয়ে বলেন—“তোমার মেয়ের হাত কেটেছি, গলা কেটেছি।” এ বক্তব্যের পর থেকেই হত্যাকাণ্ডের পেছনে পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমিউদ্দিন বলেন, “মরদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল এবং মাথা ও হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন। এটি অত্যন্ত রহস্যজনক ঘটনা। এখনো বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত চলছে।”
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রশাসন গুজব না ছড়িয়ে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ