গোপালগঞ্জ -৩ আসনে ভোটের উত্তাপ, বিএনপি সহ মাঠে ৬ প্রার্থী

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) আসনে প্রার্থীরা ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। কোটালীপাড়া উপজেলা সদর সহ বিভিন্ন হাট বাজার ও পাড়া মহল্লায় ছেয়ে গেছে পোস্টার ও ব্যানারে। চলছে মাইকিং করে ভোট প্রার্থনা। প্রার্থী ও তার সমর্থকরা দ্বারে দ্বারে গিয়ে লিফলেট বিতরণ করে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের পছন্দের প্রতীকে ভোট চাইছেন। এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছা সেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলা বিএনপি যুবদল, ছাত্রদল সহ ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে দ্বারে দ্বারে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চাইছেন। এলাকার উন্নয়নে দিচ্ছেন বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি। গোপালগঞ্জ-৩ সংসদীয় আসনকে একটি ডিজিটাল আসন হিসাবে গড়ে তুলতে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান। বিএনপি ক্ষমতায় এলে ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে প্রতিটি পরিবারকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বিগত দিনে কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া আসন থেকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধান মন্ত্রি শেখ হাসিনা নির্বাচিত হতেন। এ আসন আওয়ামীলীগের দূর্গো হিসাবেই পরিচিত ছিল। আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর এ উপজেলায় বিএনপি’র রাজনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠে। তারা শুরু করে দল গঠনের কাজ। সক্রিয় হয়ে উঠে নেতাকর্মীরা। সংসদীয় আসনে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার পর থেকেই এসএম জিলানী হিন্দু অধ্যুষিত কোটালীপাড়া উপজেলার হিন্দু ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দোয়া চেয়ে আসছিলেন। আওয়ামীলীগের অবর্তমানে স্বাধীনতাকামী এই দলটির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বেড়ে উঠেছিল। অপর দিকে হিন্দু মহাজোট নেতা এ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে সতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে প্রচারণা শুরু করেছেন। তিনিও দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাইছেন। এলাকার উন্নয়নে দিচ্ছেন বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি। সরজমিন উপজেলা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ভোটারদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, সতন্ত্র প্রার্থী এ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক নির্বাচনে আসায় আওয়ামীলীগের ভোটাররা তাকেই বেছে নিতে পারে। আবার অনেকে বলছেন, গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক হিন্দু হয়েও বিগত দিনে হিন্দু নির্যাতনের কথা অস্বীকার করেছেন। তাই কোন হিন্দু ভোটার তাকে ভোট দিতে পারে না। ভাঙ্গারহাট বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মনোরঞ্জন বাবু দৈনিক মানব অধিকার ক্রাইম নিউজ এর প্রতিনিধিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন , যেহেতু আওয়ামীলীগ নির্বাচনে নাই তাই স্বাধীনতাকামী দল বিএনপি’র প্রার্থীকেই আমরা ভোট দিব। হিরণ গ্রামের ইউপি সদস্য লিটু খান জানান, এ উপজেলায় বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতিত মানুষের পাশে দাড়িয়ে কথা বলে আসছে তাই আমরা ধানের শীষে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বিএনপি নেতা জানান, আমরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি, এবং আশাবাদী ভোটাররা ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে এসএম জিলানী ভাইকে নির্বাচিত করবেন। তবুও আমরা কোন প্রার্থীকে ছোট করে দেখিনা। বিজয়ী হতে আমরা আমাদের দলের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ আসনে অন্যান্যের মধ্যে সতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান ফুটবল, গণঅধিকার পরিষদের আবুল বশার দাড়িয়া ট্রাক, ইসলামি আন্দোলনের ইঞ্জিনিয়ার মারুফ শেখ হাত পাখা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুফতি আব্দুল আজিজ মাক্কি রিক্সা ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির শেখ সালাহ উদ্দিন আম প্রতীক নিয়ে তাদের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
#শেখ কামরুজ্জামান (রানা)
০১৭১৮০৬৬০১৮
০৩/০২/২০২৬ইং