ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নে বস্তাভর্তি অজ্ঞাত মাংস উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে ইউনিয়নের গুড়পাড়া ও তালিনা গ্রামের মধ্যবর্তী মাঠের একটি ব্রিজের নিচ থেকে এই পরিত্যক্ত মাংসগুলো উদ্ধার করা হয়। জনমানবহীন স্থানে এভাবে মাংস ফেলে রাখার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে নানা রহস্য ও জল্পনা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার ভোরে ফজরের নামাজের পর কৃষকরা যখন মাঠে কাজ করতে যাচ্ছিলেন, তখন ব্রিজের নিচে একটি বড় বস্তা পড়ে থাকতে দেখেন। বস্তাটি থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ আসছিল এবং ভেতর থেকে রক্তমাখা মাংসের টুকরো বের হয়ে থাকতে দেখা যায়। বিষয়টি প্রত্যক্ষ করার পর মুহূর্তেই সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক কৃষক জানান, মাংসগুলো দেখে প্রাথমিকভাবে গরু বা মহিষের মনে হলেও সেগুলোর ধরন নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে সংবাদ দেন।

খবর পাওয়ার পর গুড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তাভর্তি মাংস উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। তবে উদ্ধারকৃত মাংসগুলো ঠিক কোন প্রাণীর, তা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বর্তমানে মাংসগুলো পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং প্রকৃত উৎস শনাক্তের জন্য সেগুলো ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে। কোনো চুরিকৃত গবাদি পশু জবাই করে মাংসগুলো সেখানে ফেলে রাখা হয়েছে নাকি এর পেছনে অন্য কোনো অপরাধমূলক উদ্দেশ্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গুড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই রেজাউল ইসলাম জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দ্রুতই এই ঘটনার পেছনের রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী। অন্যদিকে কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং এই কাজের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ