খাস জমি লীজকে কেন্দ্র করে অনিয়ম-দখল ও মামলা: ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ

বাংলাদেশ দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প নামে একটি সংগঠন ২০০৪ সালে ভূমি সংস্কার বোর্ডের অধীনে সভার থানার কুমার খোদা মৌজায় ৪২ দশমিক ৪৫ একর সরকারি খাস জমি অস্থায়ী আবাসিক লীজ হিসেবে পায়। সংশ্লিষ্ট স্মারক নং ডি.এন-২৭-১১/২০০৩-১০০-২০১৭/২, তারিখ ২৫ অক্টোবর ২০০৪ অনুযায়ী ১,০৩৫ জন সদস্য এই লীজের আওতায় ছিলেন। এরপর থেকে সংগঠনের সদস্যরা জমিটি ভোগদখল করে আসছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, ২০১৩ সালে ভূমি সংস্কার বোর্ডের কিছু অসাধু কর্মকর্তা বিভিন্ন অজুহাতে—যেমন স্থানীয় ফুল চাষীদের বিষয়, খাজনা, সীমানা নির্ধারণ ও প্রশাসনিক খরচের কথা বলে—পর্যায়ক্রমে মোট ২৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এই অর্থ মনিরুল হক বাবু নামে এক ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহায়তায় গ্রহণ করেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ভূমি সংস্কার বোর্ডের সহকারী ম্যানেজার মো. ইয়াসিন আরাফাত, সিনিয়র সহকারী ম্যানেজার মো. সাব্বির হোসেন এবং ম্যানেজার মোহাম্মদ হোসেন। তবে পরবর্তীতে তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন বলে জানা গেছে।
সংগঠনের সদস্যদের দাবি, একপর্যায়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে উচ্ছেদ করা হয় এবং তারা কোনো মালামাল সঙ্গে নিতে পারেননি। প্রাণভয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন তারা।
পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্তরা হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট পিটিশন নং ৫৮৪১/২০১৩ ও ১৮৮৮/২০১৮), যার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ২৮ মে আদালত আদেশ প্রদান করেন। এছাড়া খাজনা সংক্রান্ত বিষয়ে রিট পিটিশন নং ১৩২০৬/২০২৪ দায়ের করা হলে ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর আদালত আরেকটি আদেশ দেন।
আদালতের নির্দেশনার পর ১১৬ জন সদস্য বকেয়া খাজনা বাবদ ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে ২০১৫ সালের ২৫ মে ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ার ম্যানের নির্দেশে জমা দেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ক্ষতিগ্রস্তরা সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের দাবি জানিয়েছেন।