সিরাজগঞ্জের দৌলতপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত-

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দৌলতপুর ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারী ) বিকেলে উপজেলার দৌলতপুর বহুমুখী উচ্চ বিদয়ালয় মাঠ প্রাঙ্গনে আয়োজিত জনসভায় দৌলতপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মোঃ সাইদুল ইসলাম মোতাহারের সভাপতিত্বে এ জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদের।
প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দলীয় জোটের সমর্থিত সিরাজগঞ্জ -৫ বেলকুচি, চৌহালী ও এনায়েপুরের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ আলী আলম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ব্যারিষ্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যাপক মোঃ নজরুল ইসলাম, এছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামী বেলকুচি উপজেলা আমীর ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জনাব আরিফুল ইসলাম সোহেল ও উপজেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক নূর- উন নবী সরকার, সিরাজগঞ্জ জেলা যুব বিভাগের সদস্য সচিব মুসা হাসেমী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জনগণ ন্যায়বিচার, সুশাসন ও ইসলামী মূল্যবোধের নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি কল্যাণমূলকরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাজনীতি করে যাচ্ছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদের বলেন,
“দেশে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অবিচার আজ সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রয়োজন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সেই নেতৃত্ব উপহার দিতে প্রস্তুত।”
তিনি আরও বলেন,
“আমরা ক্ষমতার রাজনীতি নয়, মানবকল্যাণের রাজনীতি করি। ইসলামভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হলে দেশে শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ ন্যায় ও সততার পক্ষে রায় দেবে—এই বিশ্বাস আমাদের আছে।”
“জামায়াতে ইসলামী কখনো দুর্নীতির সঙ্গে আপস করেনি। আমরা জনগণের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকব। দেশকে একটি আদর্শ রাষ্ট্রে পরিণত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।”
এছাড়াও তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও জামায়াতে ফ্যাসিষ্ট তাড়ানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।
বিশেষ অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন,
বর্তমান সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা বেড়ে গেছে। ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে রাষ্ট্র পরিচালিত হলে সমাজ থেকে অন্যায়, জুলুম ও বৈষম্য দূর হবে। তারা আগামী নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে জনসমর্থন কামনা করেন।
জনসভায় উপজেলার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ জনগণ অংশগ্রহণ করেন। পুরো মাঠ জুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বক্তৃতাকালে বারবার স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে জনসভাস্থল।