েবেআইনি ভাবে সমঝোতা চুক্তি করে সার্ভিস বেনিফিট ছাড়াই ৪০০ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করলেন লাবিব গ্রুপ।
গাজীপুরের সাইন বোর্ড এলাকায় অবস্থিত লাবিব গ্রুপের একটি তৈরী পোশাক কারখানা ম্যাট্রিক্স সোয়েটার লিমিটেড। গত ১৯ অক্টোবর সারা দিন এবং সারা রাত অনাহারে-অর্ধাহারে পাজীপুরের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর উপমহাপরিদর্শক এর কার্যালয়ে দিন রাত পার করেন শ্রমিকরা।
২০ আক্টবর সারাদিন শ্রমিকরা কলকারখানায় অবস্থান করলেও কোন লেবার ইন্সপেক্টর শ্রমিকদের সাথে কথা বলতে আসেনি দাবি শ্রমিকদের।
শ্রমিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন সরকারী প্রতিষ্ঠান কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর থেকে কোন সহযোগীতা পাইনি বরং সময়ের পর সময় বেঁধে দিয়ে শ্রমিকদের মনবল ভেঙ্গে দিয়েছে আমরা প্রতারণার স্বীকার হয়েছি।

পূর্বপরিকল্পিত ভাবে বরখাস্তের আদেশ দিয়েছে মালিক পক্ষ যার কোন আইনগত ভিত্তি নাই কিন্তু আমাদের ৪০০ শত শ্রমিকের কথা বিশ্বাস করেনি কেউ ।বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার, ৫৯ জন শ্রমিকের নামে মামলা এবং দেরশতাদিক শ্রমিকের নামে অজ্ঞাত মামলা প্রত্যাহার করে আইনানুগ পাওনাদি পরিশোধের দাবিতে শ্রমিকরা টঙ্গী কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে অবস্থান করেন, অবস্থান কালে গত ২০/১০/২০২২ ইং তারিখে চোখের জল মুছতে মুছতে শুন্য হাতেই বিদায় নিতে হল শ্রমিকদের।
পরে লাবিব গ্রুপের গরুর খামার থেকে ১০ হাজার ১৪ হাজার করে টাকা দিয়ে বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে বিদায় করে দেয় শ্রমিকদের। এসময় উপস্থিত ছিলেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহকারী উপমহাপরিদর্শক মোতালেব মিয়া এবং শ্রমিক ফেডারেশনের মাহতাব উদ্দিন সহীদ,আসাদুল ইসলাম মাসুদ,এইচ এম সামসুল হক,হারুন সরকার, শামীম খান সহ আর অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন কলকারখানা অধিদপ্তরে অবস্থান কালে কলকারখানার কোনো কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি ।
শ্রমিকরা টানা ১ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন কিন্তু শ্রমিকদেরকে মিথ্যা বানোয়াট পূর্বপরিকল্পিত ভাবে অসৎ শ্রম আচরণের অভিযোগ এনে বেআইনি সমঝোতা চুক্তি মাধ্যমে দালাল শ্রমিক নেতাদের যোগ সাজে সার্ভিস বেনিফিট থেকে বঞ্চিত করা হয় বলে জানান শ্রমিকরা ।
কিছু অসাধু শ্রমিক সংগঠনের যোগ সাজে শ্রমিকদের কে ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন দাবি শ্রমিকদের বলে জানান শ্রমিকরা। শ্রমিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন ঐ সকল শ্রমিক নেতারা আমাদের শুরুতে বলেছেন এক কথা,শেষে দেখলাম নিরব ভূমিকা।

৪০০শত শ্রমিককে বেআইনিভাবে কাজ হইতে বিরত রেখেছেন যার কোন প্রমান দেখাতে পারবে না দাবি শ্রমিকদের। বিষয়টি সমাধানে একাধিকবার কলকারখানা অধিদপ্তর গিয়েছেন শ্রমিকরা কিন্তু সুষ্ঠু কোন সমাধান পাননি তারা।
পরবর্তিতে শ্রমিকদের কে কলকারখানা অধিদপ্তর থেকে জোড় পূর্বক সড়িয়ে আলমগীর রেঞ্জ লিমিটেড এর ভিতরে গরুর খামারে নিয়ে সামান্য টাকা দিয়ে বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর নিতয়েছেন, কিছু দালাল শ্রমিক সংগঠন যোগ সাজে মালিক পক্ষ। তাদের পাওনা থেকে বঞ্চিত করার জন্য একটি সুবিধাভোগী মহল শ্রমিকদের কে পুঁজি করে মালিকের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে শ্রমিকদের অধিকারের প্রশ্নে আপোষ করেছেন দাবি শ্রমিকদের। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে বলে মত শ্রমিকদের

নামে-বেনামে সংগঠনের নাম দিয়ে অসংখ্য ভুঁইফোড় শ্রমিক সংগঠন গড়ে উঠেছে। মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে সামান্য শ্রম অসন্তোষ দেখা দিলে সেখানে একটি কুচক্রী মহল শ্রমিকদের ঘাঁও বানিয়ে উস্কানি দিয়ে নিজেদের পকেট ভারি করার পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসনের নীরব ভূমিকা।গার্মেন্টস সেক্টরে অশনি সংকেত শিল্পকে বাঁচাতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে দাবি শ্রমিক সংগঠনের একাংশের।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন
জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি, বাহারানে সুলতান বাহার, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশ এর সভাপতি মাহতাবউদ্দিন শহিদ, গাজীপুরের এইচএম শামসুল হক, বাংলাদেশ তৃণমূল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শামীম খান,টেক্সটাই শ্রমিক ফেডারেশনের হারুন সরকার,ফিরোজ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
গাজীপুরে এই প্রথম সার্ভিস বেনিফিট ছাড়াই ৪০০ শ্রমিক ছাটাই করলেন মালিক পক্ষ।


ঘটনার সূত্র পাত: ১৩(১) ধারা দিয়ে নোটিশ টানিয়ে ৪০৮ জন শ্রমিককে চাকুরী হইতে বিরত রাখেন গাজীপুরে গাছা থানাধীন মেট্রিক্স সোয়েটার লিমিটেড এর মালিক পক্ষ। প্রতিবাদ স্বরুপ গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ইং তারিখে কলকারখানা অধিদপ্তর হেড অফিস ঘেরাও করেন শ্রমিকরা তাতেও কোন কাজ হয়নি।
শ্রমিকরা জানান শান্তিপূর্ণভাবে গত,১৬ আগষ্ঠ-২০২২ ইং তারিখে কারখানা চলাকালীন সময়ে সোয়েটার এর পিচ রেট বাড়ানোর দাবী তুলেন শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের দাবী দ্রব্য মুল্যের উর্দু গতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গিয়েছে যেখানে দিন দিন মজুরি বাড়ানোর কথা সেখানে মালিকপক্ষ কাজের পিস রেট কমিয়ে দিয়ে মজুরি দিনদিন কমিয়ে দিচ্ছেন। তাই আমরা কাজের পিস রেট বাড়ানোর দাবি তুলি এবং শ্রমিকরা ১৭ ও ১৮ তারিখ পর্যন্ত তারা কারখানায় নিয়মিত ডিউটি করেন, উৎপাদন কাজ চালিয়ে যান। মালিকপক্ষ হঠাৎ করে গত-১৯ আগষ্ঠ পরিকল্পিতভাবে শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৩(১) ধারায় নোটিশ টানিয়ে ৪০৮ জন শ্রমিককে চাকরি হইতে বিরত রাখছেন এবং ৫৯ জন শ্রমিকের নামে মামলা দায়ের করেছেন মালিকপক্ষ। ১৭ ও ১৮ তারিখ পর্যন্ত তারা কারখানায় নিয়মিত ডিউটি করেন, কিন্তু হটাৎ করে ১৯.০৮.০২২ ইং তারিখ সকালে কারখানার মেইন গেটে ১৩(১) ধারা নোটিশ টানিয়ে বন্ধ ঘোষণা করে কারখানার প্রধান ফটকে ছবি টানিয়ে চাকুরীচ্যুত করেন। বিষয়টি সুরাহার জন্য শ্রমিকরা বিজিএমইএ সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেন,কোন সুরাহা না হওয়ায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ইং তারিখে কলকারখানা অধিদপ্তর হেড অফিস ঘেরাও করে শ্রমিকগন।

জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি বাহারানে সুলতান বাহার, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশ এর সভাপতি মাহতাবউদ্দিন শহিদ, গাজীপুরের এইচএম শামসুল হক, ফিরোজ আহমেদ,হারুন সরকার শ্রমিকদের সহায়তা করেছেন কিন্ত সার্ভিস বেনিফিট পেলেন না শ্রমিকরা।
পোস্টটি শেয়ার করুনঃ